ওয়েবসাইট (Website) কি | ওয়েবসাইট কেন দরকার এবং কত প্রকার?

এক সময় ছিল, যখন ইন্টারনেট বলতে ছিল শুধুমাত্র কিছু কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ। তখন ইন্টারনেটে প্রবেশ করার জন্য আমাদের কম্পিউটারে বিশেষ সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হতো।

আর ইন্টারনেটে কোন তথ্য খুঁজে পেতে হলে আমাদের সেই তথ্যের ঠিকানা জানতে হতো।

ওয়েবসাইট (Website) কি | ওয়েবসাইট কেন দরকার এবং কত প্রকার?
Website কি

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ইন্টারনেট আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আর ইন্টারনেটে প্রবেশ করা এবং তথ্য খুঁজে পাওয়া সহজ হয়ে ওঠে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ওয়েবসাইটের।

হ্যালো ইনফো পোর্টাল বিডি পাঠক, আজকের টপিক ওয়েবসাইট কি (Website ki) নিয়ে লেখা আর্টিকেলে আপনাকে স্বাগতম।

ওয়েবসাইট হল ইন্টারনেটে অবস্থিত এক বা একাধিক ওয়েব পেজের সমষ্টি। একটি ওয়েব পেজ হল একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর লেখা পাঠ্য, ছবি, ভিডিও, ইত্যাদির সংগ্রহ।

ওয়েবসাইট আমাদের ইন্টারনেট অভিজ্ঞতাকে বদলে দিয়েছে। এখন আমরা ইন্টারনেটে প্রবেশ করার জন্য শুধুমাত্র একটি ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করি। আর ইন্টারনেটে কোন তথ্য খুঁজে পেতে হলে আমরা শুধুমাত্র সেই তথ্যের নাম লিখি।

আর আমাদের কাঙ্ক্ষিত তথ্য পেয়ে যায়। আজকের আর্টিকেল থেকে আপনি জানতে পারবেন Website কি, ওয়েবসাইটের কাজ কি এবং ওয়েবসাইট কত প্রকার ও কি কি এই আরোও অনেক বিস্তারিত বিষয় জেনে যাবেন।

ওয়েবসাইট কি (What is Website In Bangla)

ওয়েবসাইট হল ইন্টারনেটে থাকা একটি তথ্য ভাণ্ডার এর সমষ্টি। এটি একটি নির্দিষ্ট ডোমেইন নামের অধীনে সংগঠিত ওয়েব পৃষ্ঠা, ছবি, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যের সমষ্টি। ওয়েবসাইটগুলি সাধারণত একটি ওয়েব সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে এবং একটি ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করে অ্যাক্সেস বা প্রবেশ করা যায়।

ওয়েবসাইটের উদাহরণ

  • www.google.com হল একটি ওয়েবসাইট যা গুগল ইনকর্পোরেটেডের দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। এটি একটি সার্চ ইঞ্জিন যা ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেটে তথ্য খুঁজে পেতে সহায়তা করে।
  • www.facebook.com হল একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েবসাইট যা ব্যবহারকারীদের একে অপরের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।
  • www.amazon.com হল একটি অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট যা ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন পণ্য কেনার সুযোগ দেয়।

অন্যভাবে বলা যায়, ওয়েবসাইট হল ইন্টারনেটের একটি দরজা। এটি একটি বিশ্বব্যাপী জালের মাধ্যমে আমাদেরকে বিভিন্ন তথ্য, পণ্য এবং পরিষেবার সাথে সংযুক্ত করে। ওয়েবসাইটগুলি আমাদেরকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো কিছু সম্পর্কে জানতে এবং বিভিন্ন্য কাজ করতে সাহায্য করে থাকে।

ওয়েবসাইটের ইতিহাস (History Of Website)

ওয়েব সাইটের ইতিহাস শুরু হয় ১৯৮৯ সালে, যখন ব্রিটিশ পদার্থবিদ টিম বার্নার্স-লি CERN-এ ইন্টারনেট ব্যবহার করে তথ্য ভাগ করে নেওয়ার একটি উপায় তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন।

তিনি হাইপারটেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ (HTML) তৈরি করেন, যাতে তথ্যকে হাইপারলিঙ্ক ব্যবহার করে সংযুক্ত করা যায়। তিনি একটি ওয়েব ব্রাউজারও তৈরি করেন যা HTML-তে লেখা ওয়েব পৃষ্ঠাগুলি দেখাতে পারে।

বার্নার্স-লির কাজের ফলাফল হল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW), যা ইন্টারনেটের ওপর ভিত্তি করে তথ্য এবং যোগাযোগের একটি বিশ্বব্যাপী ব্যবস্থা। প্রথম ওয়েবসাইটটি ১৯৯১ সালে চালু হয়েছিল এবং এটি ছিল CERN-এর একটি ইন্টারনাল তথ্যসূত্র।

১৯৯৩ সালে, CERN ঘোষণা করে যে WWW যেকোনো ব্যক্তির জন্য বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। এটি ওয়েবের বিস্তারে একটি বিপ্লব ঘটায়, কারণ এটি এখন যে কেউ ওয়েব তৈরি এবং ব্যবহার করতে পারে।

১৯৯৪ সালে, প্রথম বাণিজ্যিক ওয়েবসাইটগুলি চালু হয়েছিল। এই ওয়েবসাইটগুলি পণ্য এবং পরিষেবাগুলির বিজ্ঞাপন এবং বিক্রি করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল।

১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে, ওয়েব জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছিল। এই সময়ের মধ্যে, লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছিল এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছিল।

২০০০-এর দশকে, ওয়েব আরও জটিল এবং ইন্টারেক্টিভ হয়ে ওঠে। এই সময়ের মধ্যে, নতুন প্রযুক্তি, যেমন অ্যানিমেশন, ভিডিও এবং সামাজিক মিডিয়া, ওয়েবকে আরও আকর্ষক এবং তথ্যপূর্ণ করে তুলতে ব্যবহৃত হয়েছিল।

২০১০-এর দশকে, ওয়েব মোবাইল ডিভাইসগুলিতে আরও বেশি অ্যাক্সেসযোগ্য হয়ে ওঠে। এই সময়ের মধ্যে, মোবাইল ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

আজ, ওয়েবসাইট আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়েছে। আমরা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে তথ্য খুঁজে পেতে, যোগাযোগ করতে, কেনাকাটা করতে, বিনোদন নিতে এবং আরও অনেক কিছু করতে পারি।

ওয়েবের বিকাশের কিছু উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হল:

  • ১৯৮৯: টিম বার্নার্স-লি HTML এবং WWW তৈরি করেন।
  • ১৯৯১: প্রথম ওয়েবসাইট চালু হয়।
  • ১৯৯৩: CERN ঘোষণা করে যে WWW যেকোনো ব্যক্তির জন্য বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে।
  • ১৯৯৪: প্রথম বাণিজ্যিক ওয়েবসাইট চালু হয়।
  • ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে: ওয়েবের জনপ্রিয়তা শীর্ষে পৌঁছেছে।
  • ২০০০-এর দশক: ওয়েব আরও জনপ্রিয় এবং ইন্টারেক্টিভ হয়ে ওঠে।
  • ২০১০-এর দশক: ওয়েব মোবাইল ডিভাইসগুলিতে আরও বেশি অ্যাক্সেসযোগ্য হয়ে ওঠে।

আমি বিশ্বাস করি যে ওয়েব আমাদের জীবনকে আরও বেশি সংযুক্ত, তথ্যপূর্ণ এবং ইন্টারেক্টিভ করে তুলতে থাকবে।

ওয়েবসাইট এর কাজ কি

আমি যদি সরাসরি বলি যে, Website এর কাজ কি? তাহলে ভণিতা বাদ দিয়ে বলা যায়, অনলাইন থেকে নানা রকম তথ্য  জানতে, কিনতে এবং তথ্য সাবমিট দিতে সাহায্য করে থাকে।

এই আধনিক যুগে আমরা কোন কিছু  না জানলে সহজেই কিন্তু ইন্টারনেট থেকে জেনে নিতে পারি এই ওয়েবসাইট থেকেই। আর এই রকম তথ্য পেতে আমরা গুগলকেই বেশি ব্যবহার করে থাকি।

আর গুগলও হচ্ছে একটি ওয়েবসাইট যা সার্চ ইঞ্জিন হিসাবে কাজ করে এবং কোন তথ্য আমাদের মাঝে অনেক গুলা ওয়েবসাইট থেকে ইউ আর এল নিয়ে দেয়।

ওয়েবসাইটগুলির কাজকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে:

  • #তথ্য প্রদান করা
  • #পণ্য বিক্রয় করা
  • #পরিষেবা প্রদান করা

ওয়েবসাইট কিভাবে তথ্য প্রদান করা

ওয়েবসাইটগুলি বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য প্রদান করতে পারে। এই তথ্যগুলির মধ্যে রয়েছে খবর, শিক্ষা, বিনোদন, ব্যবসা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ইত্যাদি। উদাহরণস্বরূপ, আপনি একটি সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইট ব্যবহার করে সাম্প্রতিক খবরগুলি সম্পর্কে মানুশকে জানাতে পারবেন।

আপনি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আপনার পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেতে এবং অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারবেন।

আপনি একটি বিনোদন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আপনার প্রিয় টিভি শো বা চলচ্চিত্রের সম্পর্কে জানতে পারবেন। আপনি একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে বিশ্ব সম্পর্কে নতুন জিনিস শিখতে পারেন।

ওয়েবসাইট দিয়ে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে

ওয়েবসাইটগুলি পণ্য বা পরিষেবা বিক্রি করতে ব্যবহার করা যাবে। এই পণ্য বা পরিষেবাগুলির মধ্যে রয়েছে বই, পোশাক, খাবার, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট ব্যবহার করে অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারেন। আপনি একটি অনলাইন টিকিটিং ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আপনার ভ্রমণের জন্য টিকিট বুক করতে পারেন।

আপনি একটি অনলাইন ব্যাংকিং ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দেখতে পারেন।

ওয়েবসাইট দিয়ে পরিষেবা প্রদান করা

ওয়েবসাইটগুলি বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা প্রদান করা যায়। এই পরিষেবাগুলির মধ্যে রয়েছে ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, যোগাযোগ ইত্যাদি।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি একটি অনলাইন ব্যাংকিং ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আপনার ব্যাংকিং লেনদেন করতে পারেন। আপনি একটি অনলাইন স্বাস্থ্যসেবা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আপনার স্বাস্থ্যের তথ্য দেখতে পারেন।

আপনি একটি অনলাইন শিক্ষা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আপনার পড়াশোনার জন্য অনলাইন কোর্স নিতে পারেন। আপনি একটি অনলাইন যোগাযোগ ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আপনার বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারেন।

ওয়েবসাইটগুলি আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে গেছে। এগুলি আমাদেরকে তথ্য, পণ্য এবং পরিষেবাগুলিতে অ্যাক্সেস করতে এবং অন্যদের সাথে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

আশা করি, ওয়েবসাইট কেন দরকার সেই প্রশ্নের উত্তর আপনি উপড়ের লেখা পড়ার পর বুঝে গিয়েছেন।

ওয়েবসাইট কিভাবে কাজ করে?

Website হলো ইন্টারনেটে থাকা একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা বা URL সহ একটি তথ্যভান্ডার। এই তথ্যভান্ডারটি HTML, CSS, JavaScript, এবং অন্যান্য কোড দিয়ে তৈরি। Website-এর তথ্যগুলিকে Web browser-এর মাধ্যমে পড়া যায়।

ওয়েবসাইটগুলি কাজ করার জন্য তিনটি প্রধান উপাদান প্রয়োজন:

  • ওয়েব সার্ভারে থাকা ফাইল এবং ডেটা: ওয়েবসাইটের সমস্ত ফাইল এবং ডেটা ওয়েব সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে। এই ফাইলগুলির মধ্যে রয়েছে HTML কোড, CSS স্টাইল, JavaScript কোড, ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য মিডিয়া ফাইল।
  • ওয়েব ব্রাউজার: ওয়েবসাইটগুলিতে প্রবেশ করার জন্য একটি ওয়েব ব্রাউজারের প্রয়োজন। ওয়েব ব্রাউজারগুলি ওয়েবসাইটের ফাইলগুলিকে ডাউনলোড করে এবং সেগুলিকে একটি ব্যবহারযোগ্য আকারে রূপান্তর করে।
  • ডোমেইন নাম: ওয়েবসাইটের একটি ডোমেইন নাম থাকে যা এটিকে অন্যটি আলাদা। ডোমেইন নামটি একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা হিসাবে কাজ করে।

ওয়েবসাইটগুলি কীভাবে কাজ করে তা জানার জন্য একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।

ধরুন আপনি একটি সংবাদপ্ত্র প্রকাশ করে ওয়েবসাইট দেখতে চান। আপনি যখন আপনার ওয়েব ব্রাউজারে সংবাদ প্রকাশ করে এমন ওয়েবসাইটের ডোমেইন নাম লিখে সার্চ করেন। তাহলে ওয়েব ব্রাউজারটি ডোমেইন নামটিকে একটি IP ঠিকানার সাথে ম্যাপ করে।

প্রতিটি কম্পিউটার ইন্টারনেটে একটি ইউনিক ঠিকানা থাকে যা একে অন্য থেকে আলাদা করে। ওয়েব ব্রাউজারটি তারপরে IP ঠিকানাটি ব্যবহার করে সংবাদপ্ত্র প্রকাশ করে সেই ওয়েবসাইটের ওয়েব সার্ভারে সংযুক্ত হয়।

ওয়েব সার্ভার তারপরে ওয়েবসাইটের সমস্ত ফাইল এবং ডেটা ওয়েব ব্রাউজারে প্রেরণ করে। ওয়েব ব্রাউজার সেই ফাইলগুলিকে ডাউনলোড করে এবং সেগুলিকে একটি ব্যবহারযোগ্য আকারে রূপান্তর করে।

ফলে, আপনি সংবাদপত্র প্রকাশ করে ঐ ওয়েবসাইটের সমস্ত তথ্য দেখতে পান।

ওয়েবসাইটগুলিকে আরও আকর্ষণীয় এবং আধুনিক করে তোলার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে CSS স্টাইল, JavaScript কোড এবং অন্যান্য মিডিয়া ফাইল।

CSS স্টাইলগুলি ওয়েবসাইট কে সুন্দর দেখাতে সাহায্য করে। JavaScript কোডগুলি ওয়েবসাইটে ইন্টারেক্টিভিটি যোগ করে।

অন্যান্য মিডিয়া ফাইলগুলি, যেমন ছবি, ভিডিও এবং অডিও, ওয়েবসাইটে তথ্য যোগ করতে বা ব্যবহারকারীদের আরও আকর্ষিত করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ওয়েবসাইট কত প্রকার ও কি কি (Types Of Website)

উপরে আপনি জানতে পেরেছেন ওয়েবসাইট কাকে বলে বা ওয়েবসাইট মানে কি জানতে পেরেছেন এবং তার সাথে জেনে গেছেন ওয়েবসাইট এর কাজ কি। আর একটি ওয়েবসাইট কিভাবে কাজ করে এসব নিয়ে।

এখন আপনি জানতে পারবেন আসলে ওয়েবসাইট কত প্রকার এবং কি কি। ওয়েবসাইট বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে এবং এটি বিশেষ ধরনের উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।

তবে ইন্টারনেটে আপনি যত ধরনের ওয়েবসাইট দেখে থাকেন সেগুলাকে দুইভাগে ভাগ করে হয়ে থাকে। আর সেই ওয়েবসাইট এর প্রকারভেদ হচ্ছে।

  1. স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট 
  2. ডাইম্যানিক ওয়েবসাইট

স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট এবং ডাইনামিক ওয়েবসাইট হল ওয়েবসাইটের দুটি প্রধান প্রকার। এই দুটি প্রকার ওয়েবসাইটের মধ্যে পার্থক্য হল তাদের তৈরি এবং আপডেট করার পদ্ধতিতে।

স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট 

স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট হল এমন ওয়েবসাইট যা একবার তৈরি করা হলে তা প্রায়শই আপডেট করা হয় না। এই ওয়েবসাইটগুলিতে সাধারণত টেক্সট, ছবি এবং অন্যান্য স্ট্যাটিক সামগ্রী থাকে। স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটগুলি তৈরি করতে সাধারণত HTML, CSS এবং JavaScript ব্যবহার করা হয়।

ডাইম্যানিক ওয়েবসাইট

ডাইনামিক ওয়েবসাইট হল এমন ওয়েবসাইট যা প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহারকারীর ইনপুট বা ডাটাবেসের তথ্যের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তন করা যায়।

এই ওয়েবসাইটগুলিতে সাধারণত খবরের সাইট, অনলাইন শপিং সাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকে। ডাইনামিক ওয়েবসাইটগুলি তৈরি করতে সাধারণত PHP, ASP.NET, Java এবং অন্যান্য প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করা হয়।

স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট এবং ডাইনামিক ওয়েবসাইটের মধ্যে পার্থক্যগুলি নিম্নরূপ:

বৈশিষ্ট্য স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট ডাইনামিক ওয়েবসাইট
তথ্য আপডেটের প্রয়োজনীয়তা কম লাগে বেশি লাগে
তৈরির প্রক্রিয়ার কাজ সহজ কাজ জটিল
ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা HTML, CSS, JavaScript PHP, ASP.NET, Java ইত্যাদি
উদাহরণ ব্লগ, ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট খবরের সাইট, অনলাইন শপিং সাইট, সোশ্যাল মিডিয়া সাইট

কোন ধরনের ওয়েবসাইটটি আপনার জন্য উপযুক্ত তা নির্ভর করে আপনার ওয়েবসাইটের প্রয়োজনের উপর। যদি আপনার ওয়েবসাইটে পরিবর্তন করার প্রয়োজন না হয় বা আপনি একটি সহজ ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান, তাহলে স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট বানাতে পারেন।

অন্যদিকে, যদি আপনার ওয়েবসাইটে প্রায়শই পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয় বা আপনি একটি নানা রকম ফিচারযুক্ত ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান, তাহলে ডাইনামিক ওয়েবসাইট আপনার জন্য।

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা খরচ হয়?

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগবে এবং একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা খরচ হয় তা নির্ভর করে ওয়েবসাইটের ধরন, বৈশিষ্ট্য, এবং ফিচারের উপর।

সাধারণত, একটি স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট তৈরি করতে ৫০০০-১০০০০ টাকার মতো খরচ হয়।

একটি ডাইনামিক ওয়েবসাইট তৈরি করতে ১০০০০-৫০০০০ টাকার মতো খরচ হয়। আরও ফিচারযুক্ত ওয়েবসাইট, যেমন ই-কমার্স ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে ৫০০০০ টাকার বেশি খরচ হতে পারে।

ওয়েবসাইট তৈরির খরচের ইলিমেন্গুলি হল:

  • ডোমেইন নেম: ডোমেইন নেম হল আপনার ওয়েবসাইটের URL। একটি ডোমেইন নেম কেনার জন্য প্রতি বছর ১০০০-১৫০০ টাকা খরচ হয়।
  • ওয়েব হোস্টিং: ওয়েব হোস্টিং হল আপনার ওয়েবসাইটের ফাইলগুলি সংরক্ষণ করার জন্য একটি স্থান বা মেমরি। ওয়েব হোস্টিংয়ের খরচ প্রতি মাসে ১০০-২০০০ টাকা হতে পারে।
  • ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট: এখানে কত টাকা খরচ হবে এটা আপনার ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট ফিচারের উপরে ডিপেন্ড করবে।

আপনি যদি নিজে নিজে ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান, তাহলে আপনি ওয়েবসাইট বিল্ডার ব্যবহার করতে পারেন। ওয়েবসাইট বিল্ডারগুলি ব্যবহার করা সহজ এবং সাশ্রয়ী।

তবে, ওয়েবসাইট বিল্ডারগুলির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য আপনার নিজস্ব থিম বা কোড তৈরি করতে পারবেন না।

তবে আপনি চাইলে এমন অনেক ওয়েবসাইট CMS আছে যেখানে আপনি ব্যাসিক জানলে ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন।

আর আপনি যদি একজন ওয়েব ডিজাইনার এবং ডেভেলপার নিয়োগ করতে চান, তাহলে আপনি একটি বাজেট তৈরি করুন এবং বিভিন্ন ওয়েব ডেভেলপারের সাথে কথা বলুন। বিভিন্ন ওয়েব ডেভেলপারের খরচ এবং দক্ষতা আলাদা হতে পারে।

জনপ্রিয় ওয়েবসাইট তৈরির প্লাটফর্ম

ওয়েবসাইট তৈরির প্লাটফর্মগুলি ব্যবহারকারীদের তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করতে সহায়তা করে। এই প্লাটফর্মগুলি বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য এবং সুবিধা প্রদান করে, যা ব্যবহারকারীদের তাদের প্রয়োজনীয়তার সাথে মানানসই প্লাটফর্মটি বেছে নিতে দেয়।

WordPress:

    • WordPress হলো একটি ওয়েবসাইট তৈরির প্লাটফর্ম যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের কাছে জনপ্রিয়।
    • এই প্লাটফর্মটি ব্যবহার করা সহজ এবং এটি ব্যবহারকারীদেরকে তাদের ওয়েবসাইটের ডিজাইনকে অনেক বেশি কাস্টমাইজ করতে দেয়।

Wix:

  • Wix হলো একটি ওয়েবসাইট তৈরির প্লাটফর্ম যা ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • এই প্লাটফর্মটিতে বিভিন্ন টেমপ্লেট রয়েছে যা ব্যবহারকারীদেরকে তাদের ওয়েবসাইটটি দ্রুত এবং সহজে তৈরি করতে পারবেন।

Squarespace:

    • Squarespace একটি বিশেষজ্ঞ ডিজাইন এবং বিকাশ টুল সহ ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট তৈরির জন্য একটি সম্পূর্ণ প্লাটফর্ম প্রদান করে।

Shopify:

    • Shopify হলো একটি ই-কমার্স প্লাটফর্ম যা ব্যবসায়ীদের তাদের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পণ্য বিক্রি করতে সহায়তা করে।
    • এই প্লাটফর্মটিতে বিভিন্ন বিক্রয় এর জন্য ফিচারস রয়েছে যা ব্যবসায়ীদের তাদের ওয়েবসাইট থেকে আরও বেশি বিক্রি করতে সাহায্য করে।

Weebly:

    • Weebly হলো একটি ওয়েবসাইট তৈরির প্লাটফর্ম যা ব্যবহার করা সহজ।
    • এই প্লাটফর্মে টেমপ্লেট রয়েছে যা ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট তৈরির জন্য অনেক ডিজাইন পেয়ে যাবেন।

Joomla:

    • Joomla হলো একটি পোপুলার ওয়েবসাইট এবং এপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক, যা বৃহত্তর এবং পাওয়ারফুল ওয়েবসাইট তৈরি করতে সাহায্য করে।

Blogger:

  • Blogger হলো গুগলের একটি ওয়েবসাইট তৈরির ফ্রি প্ল্যাটফর্ম। এখান থেকে আপনি খুব সহজেই ফ্রিতে ব্লগসাইট বানাতে পারবেন।

ওয়েবসাইট নিয়ে আমাদের শেষ কথা

বর্তমানের এই ডিজিটাল যুগে ওয়েবসাইট মানুষের সাথে নানাভাবে জড়িয়ে আছে ঠিক যেমন ইন্টারনেট। ওয়েবসাইট ছাড়া ইন্টারনেট অচল ঠিক ওয়েবসাইট ছাড়া ইন্টারনেট শুন্য।

আশা করি, আজকের এই আর্টিকেল নিয়ে আপনি অনেক কিছুই জানতে পেয়েছেন ওয়েবসাইট সম্পর্কে। এবং আপনি যদি আরোও প্রশ্ন করতে চান ওয়েবসাইট এর উপরে তাহলে কমেন্ট করে জিজ্ঞাসা করুন।

আমাদের ব্লগ সরকারি নানা তথ্যসহ বাংলাতে আইটি নিয়ে অনেক কিছু জানতে পারবেন। তাই রেগুলার ভিসিট করতে আসতে পারেন।

আর্টিকেল পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ আর ইনফো পোর্টাল বিডি ব্লগের সাথেই থাকুন অনলাইনের মাধমে। পরের আর্টিকেল পড়ার জন্য আমন্ত্রিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top