ই পাসপোর্ট কি |  ই পাসপোর্টের সুবিধা কি [What is E-Passport in bengali]

ই পাসপোর্ট কি : (What is E-Passport in bengali) আপনারা যারা E-Passport কি তা জানেন না। তাদের জন্য আজকের এই লেখাটি অনেক বেশি প্রয়োজনীয়।

ই পাসপোর্ট কি |  ই পাসপোর্টের সুবিধা কি [What is E-Passport in bengali]
ই পাসপোর্টের সুবিধা কি
কারন, আজকে আমি আপনাকে ই পাসপোর্ট (E Passport ki) এর যাবতীয় বিষয় গুলো সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা দিব।

তো আপনি যদি ই পাসপোর্ট ও ই পাসপোর্ট এর সুবিধা গুলো সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে আজকের লেখাটি মন দিয়ে পড়ার চেস্টা করুন। 

ই পাসপোর্ট কি – What is E-Passport in bengali

সহজ কথায় বলতে গেলে, ই পাসপোর্ট হলো এমন এক ধরনের উন্নত প্রযুক্তি। যার মধ্যে বিশেষ চিপ যুক্ত করা থাকে।

এবং উক্ত চিপ এর মধ্যে কোন একজন ই পাসপোর্ট আবেনদকারী ব্যক্তির যাবতীয় তথ্য গুলো বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে স্টোর করা থাকবে।

এবং পরবর্তী সময়ে সেই চিপ যুক্ত ই পাসপোর্ট এর মাধ্যমে। একজন ব্যক্তি তার পাসপোর্ট এর মাধ্যমে বৈধতা প্রমান করতে পারবে।

আর এই ধরনের ই পাসপোর্ট এর মধ্যে উন্নত প্রযুক্তির চিপ ব্যবহার করার পাশাপাশি। আরো ভিন্ন ধরনের উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আপনি আরোও জানুন-

যেমন, বর্তমান সময়ে আমরা যে সকল ই পাসপোর্ট দেখতে পাই। সেগুলো তে চিপ ব্যাবহার করার পাশাপাশি অ্যান্টেনা ও মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এছাড়াও উক্ত ই পাসপোর্ট এর মধ্যে যে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়। সেই প্রযুক্তির মাধ্যমে লিখিত পদ্ধতির পরিবর্তে একজন ব্যক্তির যাবতীয় তথ্য গুলো উক্ত চিপ এর মধ্যেই সংরক্ষন করে রাখা হয়।

তো আশা করি, ই পাসপোর্ট কি, সে সম্পর্কে আপনি পরিস্কার ভাবে বুঝেতে পেরেছেন। 

এমআরপি ও ই পাসপোর্টের পার্থক্য কি?

দেখুন, আমাদের বাংলাদেশ এর মধ্যে ই পাসপোর্ট এর যাত্রা শুরু হয়েছিলো, ২০২০ সালে। তবে তার আগে আমাদের দেশের সকল মানুষ কে এমআরপি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হতো।

আর সে কারনে এখন অনেকের মনে একটি প্রশ্ন জাগবে। সেটি হলো, ই পাসপোর্ট ও এমআরপি পাসপোর্ট এর মধ্যে পার্থক্য কি।

তো এই দুই ধরনের পাসপোর্ট এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। যা নিচে খুব সহজ ভাবে উল্লেখ করা হলো।

ই পাসপোর্ট এমআরপি পাসপোর্ট
উক্ত পাসপোর্ট দিয়ে আপনি ইলেক্ট্রনিক গেইট দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। এবং আপনার যে ইমিগ্রেশন করার দরকার হবে। তা আপনি নিজে থেকে করতে পারবেন।  এই ধরনের পাসপোর্ট দিয়ে আপনি নিজে থেকে ইমিগ্রেশন এর কাজ করতে পারবেন না। বরং আপনার নিকট যখন এমআরপি পাসপোর্ট থাকবে। তখন আপনার যাবতীয় কাগজ পত্র গুলো যাচাই করার পর উক্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারবেন। 
আপনার নিকট যখন ই পাসপোর্ট থাকবে। তখন আপনি আপনার সেই পাসপোর্ট কে একটি এটিএম কার্ড এর সাথে তুলনা করতে পারবেন।  কিন্তুু এমআরপি পাসপোর্ট কে আপনি কার্ড এর সাথে তুলনা করতে পারবেন না। কারন, এই ধরনের পাসপোর্ট গুলো শুধুমাত্র মেশিন রিডায়েবল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
ই পাসপোর্ট এর মধ্যে অনেক উন্নত প্রযক্তির চিপ, মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার করা হয়। এবং প্রত্যেক টা ই পাসপোর্ট এর মধ্যে অ্যান্টেনা লক্ষ্য করা যায়।  এই ধরনের পাসপোর্ট গুলো শুধুমাত্র মেশিন রিডায়েবল এর জন্য ব্যবহার করা যায়। আর ই পাসপোর্ট এর মতো তেমন উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নেই।

তো ই পাসপোর্ট ও এমআরপি পাসপোর্ট এর মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে। তা উপরে সহজ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আশা করি, উক্ত পাসপোর্ট মধ্যে থাকা পার্থক্য গুলো সম্পর্কে আপনি পরিস্কার ভাবে বুঝতে পেরেছেন। 

ই পাসপোর্টের সুবিধা ও অসুবিধা

আলোচনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমরা ই পাসপোর্ট কি সে সম্পর্কে জানতে পেরেছি। এরপর আমরা এমআরপি পাসপোর্ট ও ই পাসপোর্ট এর মধ্যে থাকা পার্থক্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

তবে এ গুলো জানার পাশাপাশি আমাদের ই পাসপোর্ট এর সুবিধা ও অসুবিধা গুলো সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। কারন, বর্তমান সময়ে আমরা যেসকল ই পাসপোর্ট ব্যবহার করি।

সেই ই পাসপোর্ট গুলোর যেমন সুবিধা আছে। ঠিক তেমনি ভাবে ই পাসপোর্ট এর বেশ কিছু অসুবিধাও আছে। চলুন এবার ধাপে ধাপে ই পাসপোর্ট এর সুবিধা ও অসুবিধা গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। 

ই পাসপোর্ট এর সুবিধা 

যদি আপনার নিকট একটি ই পাসপোর্ট থাকে। তাহলে আপনি বেশ কিছু সুবিধা লক্ষ্য করতে পারবেন।

আর সবার প্রথমে আমি আপনাকে ই পাসপোর্ট এর সুবিধা গুলো সম্পর্কে বলবো। তো চলুন এবার ই পাসপোর্ট এর সুবিধা গুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

  1. যদি আপনার কাছে একটি ই পাসপোর্ট থাকে। তাহলে আর আপনার কাছে থাকা ভিসা চেক করার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থাকার দরকার পড়বে না। 
  2. ই পাসপোর্ট এর কারণে খুব দ্রুত ইমিগ্রেশন করা সম্ভব। 
  3. যখন আপনার নিকট একটি ই পাসপোর্ট থাকবে। এবং আপনি যখন ই পাসপোর্ট এর মাধ্যমে যাতায়াত করবেন। তখন আপনি আপনার সকল তথ্য গুলো কেন্দ্রিয় তথ্যাগার থেকে জেনে নিতে পারবেন। 
  4. আপনি যখন কোথাও ভ্রমন করার জন্য ই গেট এর সামনে দাড়িয়ে আপনার ই পাসপোর্ট হাতে নিবেন। তখন ই গেট থেকে আপনার ই পাসপোর্ট এর ছবি তুলে নেওয়া হবে। আর তারপর আপনি আপনার ইমিগ্রেশন এর ধাপ সম্পূর্ণ করতে পারবেন। 
  5. তবে যদি কোন কারনে আপনার হাতে থাকা ই পাসপোর্ট এর তথ্য অমিল থাকে। তাহলে সেখানে থাকা কর্মকর্তারা আপনার যাবতীয় তথ্যাদি চেক করতে পারবে।
  6. যদি কোন কারণে আপনার উপর ভ্রমন নিষেধাজ্ঞা থাকে। তাহলে এটি খুব সহজেই ই পাসপোর্ট এর মাধ্যমে জানতে পারা যাবে। 
  7. আমরা যে সকল ই পাসপোর্ট ব্যাবহার করি। সেই ই পাসপোর্ট গুলো জাল বা নকল করা একবারে অসম্ভব বলা চলে। কারন, এই ধরনের ই পাসপোর্ট এর মধ্যে মোট ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। 
  8. একটি ই পাসপোর্ট এর মধ্যে আপনার তিন ধরনের ছবি যুক্ত থাকে। প্রথমত, আপনার হাতের ১০ টি আঙ্গুলের ছবি, আপনার চোখের আইরিশ এর ছবি থাকবে। যার ফলে একজন ব্যক্তিকে খুব সহজে ই পাসপোর্ট এর মাধ্যমে শনাক্ত করা যাবে।

তো উপরের আলোচনা তে আপনি বেশ কিছু ই পাসপোর্ট এর সুবিধা দেখতে পাচ্ছেন। তবে এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ই পাসপোর্ট এর কি অসুবিধা আছে কিনা। আর সে বিষয়ে নিচের আলোচনা তে বিস্তারিত বলা হলো। 

ই পাসপোর্ট এর অসুবিধা গুলো কি কি?

যদিওবা উপরের আলোচনা তে আমি আপনাকে বলেছিলাম যে, ই পাসপোর্ট এর সুবিধার পাশাপাশি অসুবিধাও আছে। কিন্তুু এখন পর্যন্ত ই পাসপোর্ট এর কোন ধরনের অসুবিধা লক্ষ্য করা যায়নি।

আপনি আরোও দেখতে পারেন…

এবং বর্তমান সময়ে মানুষ এমআরপি পাসপোর্ট এর চাইতে ই পাসপোর্ট ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কিন্তুু ভবিষ্যতে যদি ই পাসপোর্ট ব্যবহারে কোন অসুবিধা লক্ষ্য করা যায়। তাহলে আমি এখানে আপডেট করে দিবো। 

ই পাসপোর্টের মেয়াদ, ফি ও পৃষ্ঠাসংখ্যা

আলোচনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমরা ই পাসপোর্ট সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় জানতে পেরেছি। যেমন, সবার শুরুতে আমরা জেনেছি, ই পাসপোর্ট কি।

তারপর আমি আপনাকে ই পাসপোর্ট এর সুবিধা গুলো জানিয়ে দিয়েছি। তো এবার আমি আপনাকে ই পাসপোর্ট এর মেয়াদ কত বছর, ই পাসপোর্ট এর ফি কত টাকা এই বিষয় গুলো সম্পর্কে আলোচনা করবো।

তো আমরা যে সকল ই পাসপোর্ট ব্যবহার করি। সেই ই পাসপোর্ট গুলো তে এমআরপি পাসপোর্ট এর মতো ৫ বছর ও ১০ বছর করে মেয়াদ থাকে।

এবং আপনি যদি ই পাসপোর্ট এর পৃষ্ঠা সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে বলবো যে, এমআরপি পাসপোর্ট এর মধ্যে যেমন ৪৮ পৃষ্ঠা এবং ৬৪ পৃষ্ঠা ছিলো। ঠিক একই পৃষ্ঠা আপনি ই পাসপোর্ট এর মধ্যে লক্ষ্য করতে পারবেন।

আর এখানে একটা কথা বলে রাখা উচিত। সেটি হলো, যখন মেশিন রিডায়েবল পাসপোর্ট ব্যবহার করা হতো। সেই সময় কিন্তুু ৫ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট ছিলো।

কিন্তু বর্তমান সময়ে ই পাসপোর্ট আসার কারনে। আমরা এখন ১০ বছর মেয়াদ এর পাসপোর্ট করতে পারি।

অপরদিকে ই পাসপোর্ট করার জন্য একজন আবেদনকারী কে নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে। যেমন, আপনি যদি ৫ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট করতে চান।

তাহলে আপনাকে মোট ৪ হাজার ২৫ টাকা খরচ করতে হবে। আর এটি হলো, ই পাসপোর্ট আবেদন করার সর্বনিন্ম ফি।

কিন্তুু আপনি যদি ই পাসপোর্ট জরুরী বা অতি জরুরী ভাবে ডেলিভারি নিতে চান। তাহলে আপনাকে ই পাসপোর্ট অফিস এর নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে।

আর সকল ধরনের ই পাসপোর্ট ফি কত টাকা। সে নিয়ে আমি অন্য একটি আর্টিকেলে বিস্তারিত বলেছি। যদি আপনি ই পাসপোর্ট ফি সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। 

  1. ই পাসপোর্ট ফি কত টাকা ২০২৩

তো আশা করি, আপনি উপরের আলোচনা থেকে ই পাসপোর্ট এর পৃষ্ঠা সংখ্যা এবং ই পাসপোর্ট এর মেয়াদ সম্পর্কে সঠিক তথ্য গুলো জানতে পেরেছেন।

ই পাসপোর্টে কি ভিসা নিতে হবে?

যেহুতু ই পাসপোর্ট হলো উন্নত প্রযুক্তি চিপযুক্ত পাসপোর্ট। যেখানে একজন ব্যাবহারকারীর সকল ডেটা গুলো স্টোর করা থাকে।

সেহুতু এখন অনেকের মনে একটি প্রশ্ন জাগবে। সেটি হলো, ই পাসপোর্ট করার পরও কি ভিসা নিতে হবে কিনা। তো চলুন এবার সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

আপনার জন্য আরোও আছে…

দেখুন, আপনার কাছে যতোই ই পাসপোর্ট থাকুক না কেন। আপনাকে অবশ্যই ভিসা নিতে হবে।

আর আপনি আসলে যে দেশে ভ্রমন করতে চান। আপনাকে অবশ্যই সেই দেশের ভিসার সকল নিয়ম মেনে তারপর ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। 

FAQ – E Passport / ই পাসপোর্ট

Q: বিশ্বে সর্ব প্রথম কোথায় ই পাসপোর্ট এর ব্যবহার শুরু হয়?

A: বর্তমান সময়ে আমরা এখন ই পাসপোর্ট এর ব্যবহার করছি। কিন্তুু আপনি কি জানেন, বিশ্বে সর্বপ্রথম কোথায় ই পাসপোর্ট এর ব্যবহার শুরু হয়েছিলো?

– না জানলে শুনন, ই পাসপোর্ট এর সর্ব প্রথম ব্যবহার শুরু হয়েছিলো মালেশিয়া তে। আর এই দেশে প্রায় ১৯৯৮ সাল থেকে এই উন্নত প্রযুক্তির ই পাসপোর্ট এর ব্যবহার চালু হয়েছিলো।

Q: ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?

A: যখন আপনি ই পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করবেন। তখন আপনার বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র এর প্রয়োজন হবে।

যেমন, জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয় পত্র, পিতা মাতার জাতীয় পরিচয় পত্র, ফি পরিশোধ করার চালান কপি, যোগাযোগ করার নম্বর ইত্যাদি দিয়ে আপনি ই পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। 

Q: ই পাসপোর্ট করার নিয়ম কি?

A: আপনি চাইলে খুব সহজে ই পাসপোর্ট করতে পারবেন। আর সে জন্য আপনাকে এই ওয়েবসাইট এর মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। তারপর আপনাকে উক্ত ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

যখন আপনি অনলাইনে আবেদন করবেন। তারপর আপনাকে নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে। আর এই সবকিছু করার পরে আপনাকে অনলাইন আবেদন কপি নিয়ে সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। 

ই পাসপোর্ট নিয়ে আমাদের শেষকথা

আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের ই পাসপোর্ট নিয়ে যাবতীয় তথ্য গুলো শেয়ার করেছি। তো আপনি যদি পাসপোর্ট কিংবা ভিসা সম্পর্কে আরো কোন অজানা তথ্য জানতে চান। তাহলে আমাদের সাথে থাকবেন।

আর আমাদের লেখা সম্পর্কে যদি আপনার কোন মতামত বা অভিযোগ থাকে। তাহলে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top